ভিন্ন ধর্মের মানুষদের জন্য রোববার খুলে দেয়া হয় লন্ডনের প্রায় আশিটি মসজিদ। মসজিদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অপপ্রচার আর বিভ্রান্ত দূর করতে এটা করা হয়। ইসলাম ধর্মের সাথে যে সন্ত্রাসের কোন সম্পর্ক নেই, এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে ভিন্ন ধমের মানুষরাও তা জানতে পারবে-আশা করছেন সংশ্লিষ্টা।
হঠাৎ করে গত শনিবার বার্মিংহামে বিক্ষোভ সমাবেশ করে ইসলাম বিরোধী সংগঠন প্যাগিড়া, যাতে অংশ নেয় শ দুয়েক নেতা কর্মী। ব্রিটেনের বাইরে ইউরোপের নানা জায়গায় আছে প্যাগিড়ার তৎপরতা। সবখানে তাদের অবস্থান ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধে।
অথচ বিপরীতে রবিবার লন্ডনের বিভিন্ন স্থানে সকল ধর্মের মানুষের জন্য খুলে দেয়া হয় একে একে আশিটি মসজিদ। ল-নের ইসমিক কালচারাল সেন্টার রিজেন্স পার্কে তাদের বৃহত মসজিদ খোলা রেখে অন্য ধর্মের লোকজনকে ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে ধারণা দেয়াসহ নামাজ প্রত্যক্ষ করার সুযোগ করে দেয়। আয়োজকরা বললেন, এটি সুবর্ণ সুযোগ, ইসলামের নামে যারা সন্ত্রাস করছে তাদের সাথে যে ইসলামের সামান্যতম সম্পর্কও নেই সে সম্পর্কে অবহিত করা।
মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেন ড. সুজা শফি বলেন, এটা সুবর্ণ সুযোগ যে মসজিদের কর্মকান্ড সম্পর্কে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের জানানো। এটাও জানানো যাবে যে মসজিদে কেবল নামাজ পড়া হয় না। এখান থেকে সামাজিক কর্মকান্ডও পরিচালিত হয়। এ জন্যই মসজিদ খুলে দেয়া হয়েছে সবার জন্য।
সম্প্রতি ব্রিটেনে ইসলাম বিরোধী অপরাধ আশংকাজনক হারে বেড়েছে। গেল বছর লন্ডন মেট্টোপলিটন পুলিশে এ ধরনের অভিযোগ আসে দেড় শতাধিক। প্রশাসন বলছে, আগের তুলনায় ইসলাম বিরোধী বিদ্বেষের হার এখন অনেক বেশি। ব্রিটেনে প্রায় ৩০ লাখ মুসলমানের বসবাস। যা মোট জনসংখ্যার ৫ শতাংশ। এদের সুরক্ষা আর ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে বিরোধীদের সঠিক বার্তা দিতে মসজিদগুলো সবার জন্য খুলে দেয়া হচ্ছে বলে জানান ধর্মীয় নেতারা। ইন্ডিপেনডেন্ট নিউজ।
