ডাঃ ফারজানা হামিদ
-স্তনের কিছু কোষ যখন অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠে তখন
স্তন ক্যান্সার হতে দেখা যায়। অধিকাংশ মহিলাদের জন্য
এই রোগ একটি আতঙ্কের কারণ।
**স্তন ক্যান্সার হয়েছে কি করে বুঝবেন??
স্তন ক্যান্সার হলে সাধারণত: নিচের লক্ষণ ও
উপসর্গগুলো দেখা দেয় :
-স্তনে একটি পিন্ডের মত অনুভব হয়
-স্তনের বোঁটা থেকে রক্ত বের হয়
-স্তনের আকার ও আকৃতির পরিবর্তন হয়
-স্তনের ত্বকে পরিবর্তন দেখা দেয়, যেমন-টোল পড়া
-স্তনের বোঁটা ভিতরের দিকে ঢুকে যায়
-স্তনের বোঁটার চামড়া উঠতে থাকে
-স্তনের ত্বক লালচে যেমন-কমলার খোসার
মতো এবং গর্ত-গর্ত হয়ে যায়.
***কখন ডাক্তার দেখাবেন??
নিচের কারণগুলো দেখা দেয়ার সাথে সাথে ডাক্তারের
কাছে যেতে হবে :
-স্তনে নতুন এবং অস্বাভাবিক পিন্ড অনুভব করলে
পরবর্তী মাসিক পার হয়ে গেলেও পিন্ড না গেলে
-স্তনের পিন্ড আরও বড় এবং শক্ত হলে
-স্তনের বোঁটা থেকে অনবরত রক্ত নির্গত হলে
-স্তনের ত্বকে পরিবর্তন দেখা দিলে
-স্তনের বোঁটা ভিতরের দিকে ঢুকে গেলে.
**কোথায় চিকিৎসা করাবেন??
-মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
-বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়
-বিশেষায়িত সরকারী/বেসরকারী হাসপাতাল
***ব্রেস্টে লাম্প (ছোট গোল আলুর মত পিন্ড) মানেই
অনেকে মনে করেন নির্ঘাত ব্রেস্ট ক্যানসার হয়েছে।
ভাবাটা অস্বাভাবিকও নয়। যে হারে ব্রেস্ট ক্যানসারের
সমস্যা বাড়ছে নারীদের ভয় পাওয়ার কারণটা মোটেও
হেলাফেলার কিছু নয়।
তবে ব্রেস্টে লাম্প দেখা দিলেই যে মনে করবেন ক্যানসার
হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভুল ধারনা। ব্রেস্টে লাম্প অনেকেই হঠাৎ
আবিস্কার করেন। কিন্তু প্রশ্নটা হল লাম্প হয় কেন?
এক এক বয়সে এক এক কারণে লাম্প হতে পারে। চলুন তাহলে ব্রেস্টে লাম্প হওয়ার কারণগুলো জেনে নিই।
১। বয়ঃসন্ধিতে স্তনে লাম্প
ফাইব্রোঅ্যাডেনোমা হতে পারে। এটা নিয়ে চিন্তার বিশেষ কোন কারণ নেই। এই লাম্প নিজে নিজেই চলে যায়।
২। অল্পবয়স্ক মহিলারা যারা (ব্রেস্ট ফিড করাচ্ছেন)
ব্রেস্ট অ্যাবসেস সাধারণত যন্ত্রণাদায়ক ও লাল হয়। এই
সমস্যায় সার্জন দেখিয়ে কারণ জানা ও চিকিৎসা জরুরি।
প্রাপ্তবয়স্ক মহিলাদের ক্ষেত্রে লাম্প অনেক কিছুইহতে পারে।
সিস্ট থেকে শুরু করে বিনাইন টিউমার কিংবা ক্যানসার।
মেনোপজের পড়ে স্তনে লাম্প দেখা দিলে টেস্ট
করা জরুরি। কারণ এর থেকে ক্যানসার হতে পারে।
তবে লাম্প দেখলেই সাথে সাথে ডাক্তারের
কাছে যাওয়া সম্ভব নাও হতে পারে। ডায়াগনসিসের ফল যাই
বের হোক না কেন আপনার সচেতন হওয়া উচিত।
৩। প্রথমেই বলবো, হাইপার হবেন না। খেয়াল করে দেখুন
স্তনের আর কোথাও বা বগলে আর কোনও লাম্প হয়েছে কি না। আর্মপিট লাম্প সাধারণ লিম্ফ নোড হয়। ভালো করে দেখুন স্তনের চামড়া আর নিপল
আন্ডারলায়িং লাম্পের সাথে জুড়ে আছে কি না।
থাকলে চিন্তার বিষয়। লাম্প নরম হলে চিন্তার কিছু নেই।
খুব শক্ত হলে ডাক্তার দেখান।
৪। পিরিয়ডের সময় অনেক নারীরই ব্রেস্টে ব্যথা হয়। এটা কিন্তু ফাইব্রোসিস্টিক ডিজিজ। সামান্য ট্রিটমেন্টেই
ঠিক হয়ে যেতে পারে। লাম্প নিয়ে যদি কোন সন্দেহ হয়,
তা হলে সার্জনের পরামর্শ নিন।
এবার আসা যাক ব্রেস্ট ক্যানসারের কথায়। সাধারণত কিছফু
রিস্ক ফ্যাক্টর চিহ্নিত করা যায়।
– একটা ব্রেস্টে ক্যানসার হলে অন্য ব্রেস্টেও ক্যানসার
হতে পারে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে ব্রেস্ট ক্যানসার হওয়ার
সম্ভাবনাও বেড়ে যায়।
– অতিরিক্তি ধূমপান করলে বা এলকোহল পান
করলে ব্রেস্ট ক্যানসার হতে পারে।
-ওবিসিটিও কিন্তু ব্রেস্ট ক্যানসার হওয়ার অন্যতম কারণ।
তবে বয়ঃসন্ধি থেকে যদি কেউ মোটা হতে শুরু করেন
এবং ৪০-৫০ বছরেও মোটা থাকেন, তাদের পোস্ট
মেনোপজাল ব্রেস্ট ক্যানসার হওয়ার সম্ভবনা অনেক
বেশি
