কার্ড জালিয়াতির মাধ্যমে এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলে নেয়ার ঘটনায় কয়েকজন বিদেশি নাগরিককে নজরদারিতে রাখা হয়েছে বলে জানিয়ে ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম এন্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইমের অতিরিক্ত কমিশনার।
বুধবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে একথা জানান তিনি। এদিকে সাইবার অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটিএম বুথের কার্ডের প্রবেশমুখের ব্যাসার্ধ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হওয়ায় স্কিমিং ডিভাইস বসিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয়া সম্ভব হয়েছে।
ছয় থেকে ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে রাজধানীর গুলশান, বনানী ও মিরপুরের কালশি এলাকা ইস্টার্ন ইউনাটেড কর্মাশিয়াল ও সিটি ব্যাংকের চারটি বুথে স্কিমিং ডিভাইস বসিয়ে কার্ড জালিয়াতি ও পরে গ্রাহকের অজান্তে টাকা তুলে নেয়ার ঘটনা ঘটে। এরমধ্য দুটি ব্যাংকের নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছে সময় সংবাদ।
এর মধ্যে ইউনাইডেট কর্মাশিয়াল ব্যাংক ইউসিবি'র বনানী ফুটেজ এ দেখা যায় ৭ ফেব্রুয়ারি সকাল দশটা বিয়াল্লিশ মিনিটে বুথে প্রবেশ করে এক ব্যক্তি। মাত্র দুই মিনিট সময় স্কিমিং ডিভাইস বসিয়ে বের হয়ে যায় সে। এর কয়েক ঘণ্টা পর এসে ডিভাইসটি খুলে নেয়।
পরের দিন বিকেল পাঁচটা বিশ থেকে রাত পৌনে এগারোটা পর্যন্ত তিনবার বুথে প্রবেশ করে টাকা তুলে নেয় একই ব্যক্তি। তবে এদিন তার পরনে ছিলো ভিন্ন রংয়ের পোশাক।
আর এসব ঘটনায় পল্লবী থানায় সিটি ব্যাংক এবং বনানী থানায় ইউসিবি মামলা করে। বর্তমানে মামলাগুলো তদন্ত করছে গোয়েন্দা পুলিশ। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন এরই মধ্যে কয়েকজনকে শনাক্ত করেছেন তারা।
এদিকে সাইবার অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটিএম বুথে কার্ডের প্রবেশমুখের নির্দিষ্ট একটি ব্যাসার্ধ থাকার কথা। কিন্তু যে বুথগুলোতে জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে সেগুলোর ব্যাসার্ধ অনেক বেশি ছিলো। ফলে সহজেই কার্ডের প্রবেশ মুখে স্কিমিং ডিভাইস বসাতে পেরেছে অপরাধীরা।
সাইবার অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন ব্যাংকের লোকজনের যোগসাজশ ছাড়া এই জালিয়াতি সম্ভব না। তবে পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন ব্যাংকের লোকজনের জড়িত থাকার বিষয়ে এখনো নিশ্চিত নন তারা। সময় নিউজ । ছবি- সময় নিউজ
